স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ কাজের ক্ষেত্রে বড় বাধা সাংসদ ও ইউএনওরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সাংসদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কারণে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না। স্থানীয় সরকারের কাজে সাংসদেরা হস্তক্ষেপ করেন এবং ইউএনওরা জনপ্রতিনিধিদের মতো ভূমিকা পালন করেন।
আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের জাতীয় কনভেনশনে এসব অভিযোগ করেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। কার্যকর স্থানীয় সরকার জাতীয় কনভেশন ২০২১–এ অংশ নেন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) জনপ্রতিনিধিরা। এতে সারা দেশ থেকে স্থানীয় সরকারের কয়েক শ জনপ্রতিনিধি অংশ নেন।
এ সময় বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হলো সাংসদ। তিনি উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হওয়ায় পরিষদ স্বাধীন নয়। উপজেলা পরিষদ যত দিন স্বাধীন না হবে, তত দিন কাজে অনেক অসুবিধা থেকে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন হলে চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন।
মনসুর রহমান খান বলেন, স্থানীয় সরকারের সাংসদদের কারণে অনেক দুর্নীতি হয়। এ জন্য সাংসদের আইন প্রণয়নে নিয়োজিত থাকার দাবি জানান তিনি।
পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌসুমী রহমান বলেন, ইউএনওকে ‘মহোদয়’ বলতে হয়। তিনি আরও বলেন, ‘এসি ল্যান্ডকেও স্যার বললে মনে হয় তিনি খুশি হবেন। সব জায়গায় আমাদের নাম ওসিরও নিচে থাকে।’
মৌসুমী রহমান বলেন, ‘আমার উপজেলার যিনি ইউএনও আছেন, মনে হয় তিনিই একজন জনপ্রতিনিধি। কম্বল বা সরকারি ত্রাণ আসলে তিনি গাড়িতে করে দিয়ে দেন। আমরা জানিও না কী আসল, কী দেওয়া হলো, কাকে দেওয়া হলো। আমরা জানতে চাইলে বলা হয়, দেওয়া হয়ে গেছে।
কনভেনশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারকে যত বেশি কার্যকর করা যাবে, তত বেশি জনগণের কল্যাণ সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় সরকারকাঠামো আছে, কিন্তু তার মধ্যে কিছু দুর্বলতাও আছে। তবে আমলাতন্ত্রকে অস্বীকার করা যাবে না। তাই স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সহাবস্থান করতে হবে। পরস্পরের প্রতি সম্মান রাখতে হবে।’
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, অনেক সময় দেখা যায় সরকারি কর্মকর্তারা বেশি ক্ষমতাবান হয়ে যাচ্ছেন। এ সমস্যা কেন হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে সমাধান করা প্রয়োজন।
গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বলেন, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার জন্য একটা কাঠামো থাকা দরকার। সেই কাঠামোতে একটা সংকট আছে। তাতে কিছু মানুষ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, অপরদিকে কিছু মানুষ শক্তিশালী হতে পারে না। কাঠামো ঠিক করলে সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
Baca juga
কালেরকন্ঠ অনলাইন 24-BD
All News

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন