-->

ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী রাসেল মিয়ার জীবনঃ শেখার আছে অনেককিছু


 

"বয়স্ক লোককে আমি রোজ এক ঘন্টা করে এক মাসে কুরআন শিক্ষা দিতে পারি। এমন কোন কাজ নেই যা আমি দেখেছি অথচ করতে পারি নাই। আমার জন্য দুআ করবেন যাতে আমি জীবনে কিছু করতে পারি।"


কথাগুলো বললেন জকিগঞ্জ বাজারের পূর্বপাশে কুশিয়ারা রোডে বসবাসকারী ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ি রাসেল মিয়া। গেলো মাস খানিক পূর্বে প্লাষ্টিকের খালি বোতল, কাগজপত্র, পুরাতন, বই ইত্যাদি সংগ্রহের সময় (জকিগঞ্জের আমার বাসার সামনে ভ্যানগাড়ী সহ উপস্থিত হলে) প্রচুর বৃষ্টি আসায় ঘরের বারান্দায় চেয়ার দিয়ে বসার অনুরোধ করি রাসেল মিয়াকে। কিন্তু তিনি বসতে নারাজ। চা খাওয়ার অনুরোধ করলে চা এবং পানসুপারি কিছুই খান না বলে জানান।


দেশের বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে বললেন হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ উপজেলায়। গ্রামের নাম মাহতাবপুর। পিতার নাম মোঃ ইসমাইল মিয়া। মুষলধারে তখন বৃষ্টি হচ্ছিল। তার কাছ থেকে কথাচ্ছলে জানতে পারি।


তিনি "মমছান ভূইয়া আদর্শ আলিম মাদরাসা থেকে ২০১২ সালে জিপিএ ২.৫০পেয়ে দাখিল পাশ করেন। ২০১৪ সালে বানিয়াচং সরকারি কলেজ থেকে ৩.২০ পেয়ে এইচ এস সি পাশ করেন। ২০১৮সালে সিলেট মদন মোহন কলেজ থেকে ২.৫০ পেয়ে বিএ পাশ করেন।


ইতোমধ্যে তিনি হবিগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ৬ মাস ব্যাপী আমিনশীপ কোর্স কৃতিত্বের সাথে সম্পন্ন করেছেন।তিনি সিলেট গোটাটিকর আলমপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৪ মাস ব্যাপী মেশন কোর্স ও সম্পন্ন করেছেন। পকেট থেকে  আমিনশীপের একটি ভিজিটিং কার্ড বের করে আমাকে দিয়ে বলেন জমি মাপের কোন প্রয়োজন হলে আমাকে বলতে পারেন।


 ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায় কখন থেকে জড়িত জানতে চাইলে রাসেল মিয়া বলেন ৩১ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে অবসর সময় কাজে লাগাতে এ ব্যবসা শুরু করলেও করোনার প্রকোপে এখনও তিনি এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে তিনি সিলেট এমসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমএ তে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছেন।


এ বছরের  ৯ অক্টোবর  রাসেল মিয়ার দেয়া ফোন নম্বরে কল করে কিছু পুরাতন ভাঙ্গাড়ী আসবাবপত্র নেয়ার জন্য বাসায় আসতে বলি। রাসেল মিয়া সাথে সাথেই চলে আসলেন। কিছু হালকা মেহমানদারী করি। ভ্যানগাড়ি সহ তার সাথে ছবি তুলতে চাইলে তিনি বলেন সমস্যা নেই। কয়েকটি ছবি তুলি।জরুরি ফোন আসায় তাকে বিদায় দিয়ে তাড়াহুড়া করে চলে যাই।

 

দুপুরে বাসায় খেতে আসলে আমার সাত বছরের ছেলে মুজতবা আওসাফ আমাকে বললো "আব্বু ঐ ভাঙ্গাড়ী বেটা খুব ভালা মানুষ। বললাম বাবা তুমি কি করে বুঝলে। ছেলে বললো পাশের বাসার ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যখন প্লাষ্টিকের বোতল ইত্যাদি উনার হাতে দিতেছিলো তখন তিনি বিছমিল্লাহ বলে এ গুলো হাতে নিলেন। আবার যখন তিনি বুট(ভাজা মটর)বাচ্ছাদের হাতে দেন তখন ও তিনি বিছমিল্লাহ বলে দিয়ে থাকেন। ছেলের কথা শুনে আমার চোখে পানি এসে গেলো। এই সময়ে যখন মানুষ কোন ফরজের তোয়াক্কা করতেছেনা,তখন একজন ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীর মুখে নবীর সুন্নাতের আমল সকল কাজে বিছমিল্লাহ বলা। কতোইনা আনন্দের বিষয়।


রাসেল মিয়া জানালেন, যে কোন বয়স্ক লোককে একঘন্টা করে একমাসে তিনি কুরআন শরীফ শিক্ষা দিতে পারেন। গত মাসে তিনি জকিগঞ্জের গুরুসদয় স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র খলাছড়া গ্রামের জাবের আহমদকে বিকাল তিনটা থেকে চারটা একঘন্টা করে একমাসে কুরান শরীফ পড়া শিখিয়েছেন।


রাসেল মিয়া এখন জকিগঞ্জ কম্পিউটার একাডেমিতে প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে একটা পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তার উজ্জল ভবিষ্যৎ কামনা করি।


১৩.১০.২০২০

লেখকঃ সহসভাপতি-জকিগঞ্জ লেখক পরিষদ।

Baca juga

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আমাদের সাথেই থাকুন!

একটি অনলাইন নিউজ ভিত্তিক প্রাইভেট ব্লগ সাইট।
দেশে-বিদেশের যে কেনো স্থান থেকে যে কেনো ধরনের সংবাদ ও বিজ্ঞাপন আমাদের সাইটে প্রকাশ করতে যোগাযোগ করুন।
মোবাইলঃ ০১৬৪৫৫৩৮৮৩৩
ই-মেইলঃbdkalerkonto.online24@gmail.com


বিজ্ঞাপন দিন

Main Ad

সর্বাধিক জনপ্রিয় সংবাদ